রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,
১০ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি, দুপুর ২:২১

শীত কামড় বসাচ্ছে উত্তর জনপদে

রংপুরসহ উত্তর জনপদে দিন দিন শীতের প্রকোপ বেড়েই চলছে। হিমালয়ের পাদদেশীয় এ জনপদে এবার শীত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও একাধিক শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে দেখা দিচ্ছে নানা রোগব্যাধিও। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উত্তরাঞ্চলের প্রতিটি হাসপাতালেই প্রতিদিনই বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। যার মধ্যে নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে।

তবে শীত মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই শীতবস্ত্র বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবেই কম। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়বে হতদরিদ্র, চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা। এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে সচেতন মহল।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রকৃতিতে এখন হেমন্তের হিমেল হাওয়া বইলেও হিমালয়ের পাদদেশীয় রংপুরসহ উত্তর জনপদে এখনই শীত যেন জেঁকে বসেছে। দিনে খানিকটা হালকা গরম অনুভূত হলেও বিকাল থেকে সকাল, হালকা শীতে এখনই যেন কাবু করে ফেলছে এ জনপদের জনজীবন। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে প্রকৃতি। স্থানীয় আবহাওয়া দফতর বলছে, তাপমাত্রা উঠানামা করছে। শৈত্যপ্রবাহ নয় তবে তার কাছাকাছি আবহাওয়া বিরাজ করছে।

এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগ নিউমোনিয়া ও শিশু ডায়রিয়ায় শিশু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উত্তরের প্রতিটি হাসপাতালেই শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এ সময়ে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের শীত থেকে সাবধানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, প্রতিটি জেলায় হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের সংখ্যা গড়ে ২ লাখের ওপর। উত্তরের ১৬ জেলা কমপক্ষে ৩০ লাখের বেশি হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে। অথচ বরাদ্দ এসেছে ৮ থেকে ৯ লাখ; যা প্রতিটি জেলায় গড়ে ৫১ থেকে ৫২ হাজার করে। এই বরাদ্দ জেলাগুলোর প্রতি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় শীত বস্ত্র ভাগে পড়েছে মাত্র ৪৭০ পিস করে; যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
এছাড়াও শীতার্ত মানুষের পাশে এখন পর্যন্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেভাবে এগিয়ে আসেনি। সচেতন মহলের দাবি, শীতার্ত মানুষের পাশে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো ও বিত্তবানরা এখনই এগিয়ে না এলে শৈত্যপ্রবাহের সময় চরম দুর্ভোগে পড়বে শীতার্ত মানুষ।
আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ থেকে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। বুধবার এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুরসহ আশপাশ এলাকার তাপমাত্রা ছিল ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ। ফলে ভোরবেলা অনেক স্থান কুয়াশায় ঢাকা ছিল।
রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন জনের কথা কথা হলে তারা জানান, করোনা-বন্যায় তাদের জীবন বিপর্যস্ত। এখন সঙ্গে যোগ হয়েছে শীত। এখনো পুরোপুরি শীত না আসলেও প্রতিনিয়তই শীতের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। সরকারি-বেসরকারি কেউই তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।
রংপুর জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জেলায় শীত বস্ত্রের বরাদ্দ এসেছে ৫১ থেকে ৫২ হাজার পিস। প্রতিটি জেলায় গড়ে চাহিদা এক লাখ পিস শীতবস্ত্র। এসব শীতবস্ত্র ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রংপুর কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, গত কয়েক দিন থেকে তাপমাত্রা কমছে। এখন থেকে প্রতিদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ওঠানামা করবে। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে একাধিক শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা রয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, বর্তমান আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সন্ধিক্ষণে শীত ও গরম বিরাজ করছে। পাশাপাশি এ কারণে শিশুদের পাশাপাশি বয়স্কদের মাঝে দেখা দিচ্ছে সর্দি কাশি-জ্বর। তাই এ সময় সচেতন হতে হবে।
রংপুর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান জানান, সরকারিভাবে ৫২ হাজার কম্বল ও শীতবস্ত্র কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। শীতবস্ত্র ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা