শুক্রবার, ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,
৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি, রাত ১০:০৮

হেফাজতের হরতালে সহিংসতার ঘটনায় পৃথক ৬ টি মামলা দায়ের :অধ্যাপক মামুনসহ আসামী ৩ সহস্রাধিক

সিদ্ধিরগঞ্জ  প্রতিনিধি
গত রোববার হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে সিদ্ধিরগঞ্জে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশ ও র‌্যাবের সংঘর্ষ নাশকতার ঘটনায় পৃথক ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৬ টি মামলার এজাহারে ১২৫ জনের নাম উল্লেখকরা হয়েছে এবং অজ্ঞাত প্রায় ৩ হাজার জনকে আসামী করা হয়েছে। ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে নাশকতার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৫ টি ও র‌্যাব বাদী হয়ে ১ টি মামলা দায়ের করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়। মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ জেলা বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতাসহ বিএনপি ও জামাতের অনেক নেতা-কর্মীকে আসামী করা হয়েছে বলে জানাগেছে।হেফাজতের হরতালে সিদ্ধিরগঞ্জে সহিংসতা দমনে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি প্রায় ৪ হাজার ১৫৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি মশিউর আরো জানান, নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশ বাদী হয়ে ৪ টি ও সরকারী কাজে বাধা ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ১ টি এবং সন্ত্রাস দমন আইনে র‌্যাব বাদি হয়ে ১টি মামলা দায়ের করেছে। র‌্যাবের দায়ের করা মামলায় কোন আসামীর নাম নেই। অজ্ঞাত আসামী ৪০০ থেকে ৫০০ জন।নাশকতা, সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকান্ড ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এজাহার ভূক্ত ১২৫ জন ও অজ্ঞাত প্রায় ৩ হাজার জনকে আসামী করে পৃথক ৬টি মামলা (মামলা নং-৩০,৩১,৩২,৩৩,৩৪,৩৫) দায়ের করা হয়েছে। তবে থানা থেকে আসামীদের নাম দিতে মামলার স্বার্থে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন ওসি মশিউর রহমান।হেফাজতের সকাল-সন্ধ্যা হরতালকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ১২ ঘন্টায় ১৮টি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। যার মধ্যে কাভার্ডভ্যান ৬টি, বড় ট্রাক ৯টি, বিআরটিসি বাস ১টি ও মাইক্রোবাস ২টি। সিদ্ধিরগঞ্জ ওসি জানান, ৬টি মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, নাশকতা সৃষ্টি ও পুলিশের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালাচ্ছে।উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে ২৮ মার্চ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম। হরতালকে কেন্দ্র করে ওই দিন ভোর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান নেয় হেফাজতকর্মীরা। এসময় তাদের সাথে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদেরও হেফাজত কর্মীদের সাথে দেখা যায়। এছাড়াও সাইনবোর্ড ও শিমরাইল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে হরতালকারীদের প্রতিরোধে মাঠে নামে সরকার দলীয় লোকজন। সকাল ১০টার পর থেকে শুরু হয় হরতালকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে হরতালকারীরা। এর জবাবে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি টিআর সেল, রাবার বুলেট ও চাইনিজ রাইফেলের গুলি ছুড়ে। সন্ধ্যায় হরতাল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত মহাসড়কের মাদানীনগর এলাকা থেকে সানাড়পাড় পর্যন্ত এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনে আগুন জ¦লতে দেখা গেছে।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা