বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,
১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, সকাল ৭:১৫

পিবিআই,র সংবাদ সম্মেলন অনলাইনে জুয়াখেলা ও মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সিদ্ধিরগঞ্জে তরুন তাকবির খুন

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

অনলাইন জুয়া খেলা ও মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের হাতে নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আটিগ্রামের তরুন তাকবির আহমেদ৷ গত বুধবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদাকলোনীর পানিউন্নয়নবোর্ডের পরিত্যক্ত ভবন থেকে ওই তরুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ৷ তাকবির আহমেদ হত্যাকান্ডের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের এর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ। ঘটনার পর নিহতের পিতার দায়ের করা হত্যা মামলার পরদিনই নৃশংস এই হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোন।

গতকাল শনিবার দুপুরে (২৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ পিপিএম৷
এর আগে গত ২৬ নভেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবন থেকে এই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত তাকবির বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেকার অবস্থায় থাকায় বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আর সে বাসায় ফেরেননি । দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে তাকবিরের কোন সন্ধান পাননি৷
২৬ নভেম্বর বুধবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের পানিউন্নয়নবোর্ডের পরিত্যক্ত আবাসিক ৩ নম্বর ভবনের ১ম তলার কক্ষের সামনে থেকে তাকবিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ৷
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তে প্রকৃত ঘাতকদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে গত ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁওয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মোঃ হারুনকে (৩৪) আটক করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনী মোড় থেকে মোঃ রফিকুল (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে রফিকুলের দেখানো মতে তার ঘরের সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাকবিরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জানান, মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে তারা। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে পুরোনো একটি সিমকার্ড চালু করে তাকবিরের বাবার কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করেন ঘাতকরা৷
গ্রেপ্তারকৃতরা নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রে নুর মহাসিন এর আদালতে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় ২৮ নভেম্বর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলে পিবিআই সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন৷

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা