বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
মানসিক প্রতিবন্ধী মা ফ্যাল ফ্যাল করে নিথর ফাতেমার দিকে চেয়ে থাকেন৷নারীছেঁড়া বুকের ধন ফাতেমাকে কুমির ক্ষতবিক্ষত করেছে সেটা বুঝার মতোও তার জ্ঞাণ ও নেই তবে ফাতেমার লাশ দেখে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছেন প্রতিবন্ধী মা৷ ৭ বছরের শিশু মানসিক প্রতিবন্ধী মায়ের কাছে বাগেরহাটের খানজাহান আলী মাসজার এলাকায় থাকতো৷ দৌড়া দৌড়ি ও হৈহুল্লোড়ে মতে থাকতো অবুঝ এই এতিম শিশু ফাতেমা৷ স্থানীয়রা সবাই শিশুটিকে ভাল করেই চিনে সব সময় হাসিখুশি থাকতো৷ শত কষ্টের মধ্যেও মানসিক প্রতিবন্ধী মাকে ছেড়ে দূরে কোথাও কখনোই জায়নি৷ খেয়ে না খেয়ে মায়ের আচলেই মুখ লুকাতে পরম সুখ অনুভব করতো ফাতেমা৷ ফাতেমা নেই এলাকার মানুষ ফাতেমার জন্য আহাজারি করছেন৷ ফাতেমার মা মানসিক প্রতিবন্ধী হলেও ফাতেমার কাছে ছিল অমূল্য রতন৷ ফাতেমা গত সোমবার রাত আটটার দিকে খানজাহান আলীর দীঘিতে গোসল করতে নামে এ সময় দীঘিতে থাকা কুমির ফাতেমার পা কামড়ে টেনে নিয়ে যায় দীঘির অথৈই জ্বলে৷ তখন শিশু ফাতেমা বাচার জন্য গগন বিধারী ডাক চিৎকার দিলেও কেউ কুমিরের মুখ থেকে ফাতেমাকে বাচাতে পারেনি৷ শিশু ফাতেমা তার প্রতিবন্ধী মাকে পরম আদর ও ভালবাসা দিয়ে আগলে রেখেছিল৷ ফাতেমাচলে যাওয়ায় তার মাকে আগলে রাখারআর কেউ রইল না৷৷ ফাতেমা আজ শুধুই স্মৃতি৷ এই বিদারক ঘটনায় দেশবাসীকে নাড়া দিয়েছে৷ গত মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করা হয়৷ এ ঘটনায় সরকার থেকেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক উদ্যোগ৷ খবর পেয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বন বিভাগের কর্মকর্তারাও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন৷ এদিকে
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানো হবে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, কুমিরটি স্থানান্তরের জন্য বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাগেরহাটে আসবে। তারা কুমিরটির আচরণ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে ধরার পদ্ধতি, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়গুলো নির্ধারণ করবেন।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।