শিহাব সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সিদ্ধিরগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত আলী (৪৮) নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনীর র বউবাজার এলাকায় দশতলা ভবনের সামনে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার পর তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানাগেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বলছে, সাহেব আলী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। নিহত সাহেব আলীর ছেলে মো. সজিব বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনী এলাকায় তাদের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বউবাজার এলাকায় বালুর ব্যবসা করতেন। স্থানীয় রনিসহ কয়েকজন তার বাবার নাম ভাঙিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার বাবা তাদের বাঁধা দেন।সজিবের ভাষ্য, সোমবার বিকেলে ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন তার বাবা। কিছুক্ষণ পর খবর পান, বউবাজার এলাকায় তাঁকে গুলি করে খালের ভেতরে ফেলে রাখা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।সজিব অভিযোগ করেন, রনি, আসলামসহ আরও চার-পাঁচজন তার বাবার কপালে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি করেন। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, সাহেব আলীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের আটি, ওয়াপদা কলোনী, হাউজিং, ব্উবাজার, আজিবপুরের এক আতংকের নাম শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত সাহেব আলী। তার ভয়ে এলাকার লোকজন মুখ খুলে তার অপকর্মের প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। এদিকে সাহেব আলী নিহত হলেও তার সহযোহী ১০-১২ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের জন্য এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। সাহেব আলী নিহতের খবর ছড়িেেয় পড়লে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সাহেব আলী ওয়াপদা কলেঅনীর বউবাজার এলঅকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ এমদাদুল হক বলেন সাহেব আলী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৫ টি মামলা রয়েছে। এর আগে তিনি ( সাবেক র্যাব ) সাহেব আলীকে গ্রেপ্তার করেছিল কিন্তু তার সহযোগরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা করে সাহেব আলীকে ছিনিয়ে নিয়েছিল।তার সঙ্গে চলাফেরা করা লোকজনই তাকে গুলি করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছেন। কি কারণে সাহেব আলীকে হগুলি করে হত্যা করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্তি পুলিশ সুপার তারেক আল আল মেহেদী ঘটনাস্থল পরিদর্শ করে বলেন সাহেব আলী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল একাধিক মামলায় অভিযুক্ত সাহেব আলীকে পুলিশ গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচিছল। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন সাহেব আলীকে গুলি করে যারা হত্যা করেছে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকাবাসীরা জানান সাহেব আলীর সহযোগীরাই গুলি করে সাহেব আলীকে হত্যা করেছে৷ তাদের ধারণা আধিপত্য বিস্তার ও ভাগবাটোয়ারার বিরোধেই এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়ে থসকতে পারে৷ সাহেব আলী নিহত হলেও তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা৷ সাহেব আলী ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী ডাকাতদের ভয়ে এলাকাবাসী ছিল ভয়ার্ত৷