সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুইগ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ গোলাগুলি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ১০ টি মোটর সাইকেল আগুণ ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে উভয়গ্রুপের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। গতবৃহস্পূিূতবার ( ৬ মার্চ)বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটে নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ পুরাতন থানার সামনে শিমরাইল- নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের ওপর। সংঘর্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ আইনবিষয়ক সম্পাদক শাহআলম মানিক উভয় গ্রুপে ২০০-৩০০ অনুসারী দেশীয় অস্ত্র রামদা, লাঠি ও ইটপাটকেল ও পিস্তল নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে। এ সময়ে আদমজী নারায়ণগঞ্জ সড়কে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৩ টা থেকে সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত প্রায় ২ ঘন্টা উভয়গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের সময় দৈনিক সকালের সময় সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ জাকির হোসেন এর মোটর সাইকেলসহ ১০ টি মোটর সাইকেলে আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ১০-১২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও রামদা দিয়ে দোকানের সাটার কুপিয়েছে। সংষর্ষে উভয়গ্রুপে আহতদের মধ্যে রয়েছে মোঃ রাসেল(২৬) মোঃ রবিউল ইসলাম (২৪) সোহাগ (২৬) আরমান (২৩) ফাহিম (২১) বাবু (২৮) ইব্রাহিম (২৮) ইকবাল(২৮) জনি(২৬) , স্থানীয় সংবাদকর্মী তোফাজ্জল হোসেন মায়া (৩৫), ছাত্রদল নেতা মোহন(২৫) , আরিফ,(২৪) মোঃ মানিক,(২৬)সবুজ(২৮), মাহবুব(৩) ও শহীদ(২৮)কে স্থানীয় ও নারায়ণগঞ্জ এর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানা হয়েছে বলে জানিয়েছে উভয় পক্ষের নেতা রাকিবুর রহমান সাগর ও মোঃ মনির হোসেন।
৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রাসী গলাকাটা কাশেম এর ছেলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর আদমজী ইপিজেডে ১৭ টি ফ্যাক্টরীর ঝুট ব্যবসা করে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ক্যাডার যুবলীগের পানি আক্তারের বলয়ে আদমজী ইপিজেডে মতির পক্ষ হয়ে ইপিজেডের ফ্যাক্টরী গুলোতে একচেটিয়াভাবে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্র করে। গত বৃহস্পতিবার আমাদের দলীয় কয়েকজন লোক আদমজী ইপিজেডের ইউনিভার্সেল নামক একটি ফ্যাক্টরীতে যায় কিছু মালামাল সাপ্লাই দেওয়ার জন্য। এ সময়ে রাকিবুর রহমান সাগরের লালিত ক্যাডার বাহিনীর আমার লোকদের মারধর করে ফ্যাক্টরী থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে বাইরে গিয়ে তারা প্রতিশোধ নেওয়র জন্য প্রস্তুতি নিলে উভয়গ্রুপের ২০০-৩০০ অনুসারী প্রথমে ইটপাটকেল ছুড়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করে । সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র , লাঠি, রড, রামদা ও পিস্তল নিয়ে হামলা চালানো হয়। বিএনপি নেতা মনির আরও বলেন, আমার কর্মী ও ভাগিনা রুহুলের দোকানসহ ১০-১২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা লুটপাট করেছে সাগর বাহিনী৷ এ সময়ে তারা বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন৷ রণক্ষেত্র তৈরি হয় আমজী- নারায়ণগঞ্জ সড়কের মুনলাইট এলাকা। বিএনপির দুইগ্রুপের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মনির হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সমর্থিত। মনির হোসেন অভিযোগ করেন ছাত্রদল নেতা সাগরের ফুফাতো সোহাগ ডিএনডি ক্যানেলের ওপর ব্রিজ থেকে আমাদের কর্মী সমর্থকদর ওপর গুলি বর্ষণ করেছে। আমাদের ১৪-১৫ জন কর্মী সমর্থককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। সাগর আদমজী ও ইপিজেড এলাকায় যুবলীগের শীর্ষসন্ত্রাসী মতিউর রহমান(মতি বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে জেল হাজতে) মতির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শেল্টার দিচ্ছে শত শত ক্যাডার বাহিনী নিয়ে৷ ছাত্রদল নেতা রাকিবুর রহমান সাগরসহ যারা আমার নেতাকর্মী সমর্থক ও এলাকাবাসীর ওপর হামলা করে রক্তাক্ত করেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুুট করেছে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করবো বলে বিএনপির ওই নেতা জানান৷
অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর এক সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ গিয়াস উদ্দিন সমর্থিত থাকলেও গতবছরের ৫ আগষ্টের পর সে আড়াইহাজারের নজরুল ইসলাম আজাদ ( বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ) সমর্থিত। ছাত্রদল নেতা রাকিবুর রহমান সাগর বলেন, আওয়ামীলীগ নেতারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তার দালালরা এখনো সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো নিয়ন্ত্র করছে। তারা মানুষকে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে দিচ্ছেনা। বিকেলে রাস্তার ওপ কয়েকজন ছাত্রদল নেতার ওপ হামলা করে সন্ত্রাসীরা পরে এলাকাবাবাসী তা প্রতিহত করে। সাগর আরও বলেন মানিক, মোহন ও আরিফ নামে ছাত্রদলের ৩ তো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি আরও বলেন এ ব্যাপারে আমি থানায় মনির হোসেনসহ যারা এ ঘটনায় জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিয়েছি। সাগর আরও বলেন আমার কোন লোক কিংবা কর্মী কোন গুলি করেনি৷ পিস্তল হাতে গুলি ছোঁড়া যুবক সাগরে নয় বলে সাগর দাবি করে বলেন, আমার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর মনির, শাহআলম মানিক ও রুহুলগংরা আওয়ামী সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালিয়েছে৷
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, এটা দুঃখজনক ঘটনা, প্রত্যাশিত নয়। যারা অপরাধের সাথে জড়াবে দল তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই, আমাদের এ বিষয়ে কঠিন এবং জিরোটলারেন্স অবস্থান।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ শাহীনুর আলম বলেন, আদমজী ইপিজেডে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। যৌথবাহিনীসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি, প্রচুর ইটপাটকেল ছোঁড়াছুড়ি হচ্ছিল পরিস্থিতি সামলানো কঠিন ছিল। কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়ানি বলে জানান ওসি। সংঘর্ষে ৮-১০ জন আহত হয়েছে এবং ৮ টি মোটর সাইকেল পোড়ানো হয়।