বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি, দুপুর ১:৩০

আদমজীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাড়ে তিন শতাধিক পরিবারেরর মাঝে মশারী বিতরন করলেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ

শাহজাহান জনিঃ
তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রচারণায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এর উদ্যোগে সিদ্ধিরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৬ নং ওয়ার্ডে সাড়ে তিন শত পরিবারের মাঝে মশারী বিতরণ করেন। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে আদমজী বিহারী ক্যাম্পের চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য অকিল উদ্দিন ভুইয়া এবং যুবদল নেতা ওয়াসিম আসলাম।
এর আগে তিনি আদমজী এলাকায় ৩১ দফার প্রচারপত্র বিলি ও গণসংযোগ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেছেন, স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কিন্তু আপনারা এ দেশের নাগরিক হিসেবে ভোটার হতে পারেননি। আপনারা যখন এদেশে কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছিলেন না তখন ২০০৩ সালে আমি উপলব্ধি করি। বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিল। সেই সময়ে হাইকোর্টে আপনাদের ব্যাপারে একটি রিট হয়েছিল। একজন রিট করেছিল আপনারা ভোটার হতে পারবেন কি পারবেন না। আর সেই দিনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন আমি এখানে আপনাদের অনেকের সাথে কাজ করে আপনাদেরকে সঙ্গে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য অনেককে আমি ভোটার হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। তৎকালীন সময় অনেকে যারা ভোটার হয়েছে এবং আদমজী এম ডাব্লিউ স্কুলে যখন দায়িত্বগত ছিল তাদের সাথে কথা বলেছি । তখন ৫ নাম্বার ওয়ার্ড ৬ নাম্বার ওয়ার্ড ৭ নম্বর ওয়ার্ড সুমিল পাড়াতে আপনাদের মধ্যে দুইটা ভাগ ছিল। যাতে আপনারা ভোটার হতে না পারেন। আমি চিন্তা করছি তখন আমাদের সাথে আপনাদেরকে ভাই ভাই একসাথে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে সেই চিন্তা থেকে আমি বলেছি প্রথমত তাদেরকে ভোটার করতে হবে। ভোটার হলে তারা বাংলাদেশের হিসাবে বিবেচিত হবে। তারা তাদের ছেলেমেয়েদেরকে স্কুল কলেজ পড়াতে সুযোগ সুবিধা পাবে এবং তাদের ছেলেমেয়েদেরকে আমাদের ছেলেমেয়েদের সাথে বিবাহ সাদি দিতে পারবে এবং একসাথে মিলেমিশে বসবাস করতে পারবে, রাজনীতিও করতে পারবে। তারা কাউন্সিলর হতে পারবে এমপি হতে পারবে এবং মন্ত্রীও হতে পারবে। ভোটার না হতে পারলে আপনারা যারা বড় জন সমষ্টি রয়েছেন আপনার এখানে ৭ হাজার ভোটার। কিন্তু বসবাস করেন কম করে হলে বিশ হাজার। যদি ভোটার হতে না পারতো তাহলে এই ২০ হাজার লোক অন্ধকারেই থেকে যেত।

তিনি বলেন, আপনাদের এখানে অনেকে স্বামী সন্তান ও বাবা মা সবাইকে হারিয়ে ফেলেছেন কিন্তু পাকিস্তান যেতে পারেন নাই। পাকিস্তানে আপনাদের প্রত্যাবর্তন হয়নি কারণ তারা আপনাদেরকে ফেরত নেইনি। আমি চিন্তাভাবনা করেই আপনাদের এই এলাকার ভোটার করে দিয়েছি। বর্তমানে আপনাদের এই ক্যাম্পে সাত হাজারেরও অধিক কিন্তু ভোটার আপনারা হয়েছেন। সুতরাং আপনাদের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে, আপনার মূলধারার সাথে এই জাতির সাথে মিলেমিশে বসবাস করা সুযোগ পেয়েছেন। আপনাদেরকে এসব কথাগুলো বলার একটি উদ্দেশ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতে যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রকে নতুন করে সংস্কার করার জন্য। কারণ বিগত ১৫ বছরের শেখ হাসিনার সরকারে রাষ্ট্রকে কি করেছে তা আপনারা জানেন। এই রাষ্ট্র জায়গায় জায়গায় তারা ধ্বংস করেছে। শাসন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ ব্যবস্থা থেকে আইনের শাসন নেই। দুর্নীতি ও লুটপাট করে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। শুধু তাই না দেশে মাদকের সূত্রপাত ঘটিয়েছে শেখ হাসিনা। কিন্তু আগে এত মাদক ব্যবসা ছিল না। এসব হাসিনা এদেশে এনেছে এবং মানুষের চরিত্র নষ্ট করেছে। শুধু তাই নয় মানুষের ভোটের অধিকার, মৌলিক অধিকার সবকিছুই হরণ করেছে শেখ হাসিনা। আপনাদেরকে ভোট দিতে দেইনি তারা দাঁড়িয়ে থেকে আপনাদের ভোট দিয়ে দিত। এবং জোর করে তাদের সামনেই ভোট দেওয়া হতো। এটা কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক দেশের মানুষের অধিকার হতে পারে না তারা এভাবে মানুষের অধিকার কে হরণ করেছে। তারা আপনাদের অধিকার আপনাদেরকে পালন করতে দেইনি। সে অধিকারের জন্যই কিন্তু বিএনপি দীর্ঘ ১৬টি বছর রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। সে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে কিন্তু আমরা খুনি শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করেছি। হাসিনার সাথে সাথে তারা জুলুম অত্যাচার করেছে। আপনার মন পড়েছিল ধানের শীষ ও খালেদা জিয়ার দিকে অথচ আপনাদেরকে জোর করে মিছিলে নেওয়া হতো জোর করে আপনাদেরকে বলানো হত নৌকা নৌকা। আপনারা কিন্তু কেউ মনের দিক থেকে যান নাই। আমি জানি এই এখানকার শতভাগ লোকই ধানের শীষ ও খালেদা জিয়ার৷

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা