শাহজাহান জনিঃ
বিনোদনের জন্য জনপ্রিয় ও শীর্ষ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক হারাচ্ছে। সাধারণত ঈদ বা টানা ছুটিতে কক্সবাজারে বেশ ভিড় থাকে পর্যটকের । হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসগুলোতে বুকিং দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে গত কোরবানির ঈদের চিত্র ছিল ভিন্নরকম অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে এবার পর্যটক কমছে এখানে৷ গত সোমবার ও মঙ্গলবার ২২ জুন ও ২৩ জুন কক্সবাজারে অবস্থান করে এসব তথ্য জানাগেছে৷
পর্যটকরা বলছেন, গরমের কারণে কক্সবাজারে খুব একটা পর্যটক যাচ্ছে না। তবে পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, কেবল কার, টয় ট্রেন, লেক-শো, ডলফিন শো, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, শিশুপার্ক ছাড়াই সেখানে গড়ে উঠেছে পর্যটনশিল্প। সৈকতে নেই নিশ্চিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সৈকতজুড়ে হকারদের উপদ্রব, ঘোড়া ও বাইক চালকরা পর্যটকদের তাদের ফাঁদে ফেলে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করছে৷ প্রতিবাদ করলে অশ্লীল গালিগালাজ করে তেড়ে আসে৷ সৈকতে বোতল ও ময়লা ফেলাসহ নানা ধরনের সমস্যা বিরাজ করছে৷ এছাড়া হোটেলে থাকাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে ঘন্টার পর ঘন্টা অসহ্য গরমে বিদ্যুৎ না থাকায়৷
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্রতিবছর ৭৫ লাখ থেকে ৮০ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেন বলে মনে করেন হোটেলমালিকরা। তবে পর্যটক গণনার নির্ভরযোগ্য কোনো পদ্ধতি বা তথ্যভান্ডার নেই।
হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির তথ্যমতে, কক্সবাজার শহর ও সৈকত এলাকায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউস আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দৈনিক পর্যটক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার। এবার ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে অন্তত সাত লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার সমকালকে বলেন, ঈদুল আজহার দিন থেকে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ৬ জুন পর্যন্ত ১০ দিনে সাত লাখের মতো পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। তবে এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। তিনি জানান, এখন কক্সবাজার শহরের হোটেলগুলোয় দিনে ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। অধিকাংশ হোটেল খালি। হোটেল ভাড়ায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েও পর্যটক পাওয়া যাচ্ছে না। হোটেল ব্যবসা চরম মন্দা যাচ্ছে৷
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুস শুক্কুর বলেন, গত ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে প্রায় ১২ লাখ পর্যটকের সমাগম হয়েছিল। তখন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছিল। এবার ১০ দিনে সাত লাখ পর্যটক এসেছেন। এতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।
সম্প্রতি সৈকত ও এর আশপাশের কয়েকটি হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউস ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ শতাধিক হোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি। সৈকতেও পর্যটকের উপস্থিতি তেমন একটা নেই। বৃষ্টির মধ্যে হাতেগোনা কিছু মানুষ সাগরে গোসল করছেন। কেউ বালুচরে ছাতার নিচে বসে সমুদ্র দেখছেন। কেউবা ছবি তুলছেন।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, কক্সবাজারে আসা বেশির ভাগ পর্যটকের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রে গোসল ও সূর্যাস্ত উপভোগ। পাশাপাশি কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী সৈকত, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, মাথিন কূপ, নাফ নদী, মহেশখালী ও রামুর বৌদ্ধপল্লিতেও পর্যটকরা ঘুরতে যান। পর্যটকদের ধরে রাখার মতো বিনোদনের জন্য কক্সবাজারে তেমন কিছু গড়ে ওঠেনি। কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম কিবরিয়া খান বলেন, কক্সবাজারে রাত্রিকালীন বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। কেবল কার, টয় ট্রেন, লেক-শো, ডলফিন শো, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, শিশুপার্ক ছাড়াই গড়ে উঠেছে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে এসব বিনোদনের সুবিধা রাখতে হবে।
জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, দুবাই, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া তাদের ছোট দ্বীপগুলো পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত করেছে। কিন্তু কক্সবাজারে অ্যাডভেঞ্চারের সুযোগ কম। পর্যটকরা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গত