সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি দীর্ঘ ৯ মাস ধরে স্থগিত থাকায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকমীদের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা গেছে।২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি স্থগিত করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক যুগ্ন মহাসচিব বর্তমানে মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতিসহ কয়েকজন নেতাকে দলীয় সকল কার্যক্রম থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি সাবেক যুগ্ন মহাসচিব বর্তমানে বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত আদেশে বহিস্কার করায় সব এলোমেলো হয়ে পড়েছে ।এমনকি মিডিয়াকর্মীরা পর্যন্ত স্থানীয় থানা বিএনপির বক্তব্য নিতে গেলে রীতিমতো হিমশিম থেতে হচ্ছে কারণ দায়িত্বশীল নেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।তবে বেশ কিচুদিন ধরেই সর্বত্র আলোচনায় রয়েছে দ্রুত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি গঠিত হবে। তাই নেতৃবৃন্দ নড়েচড়ে বসেছেন। আগামী দিনের নেতৃত্ব ও কমিটি গঠন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দলের শ্ঙ্খৃলা ও শান্তি বজায় রেখে থানা বিএনপিকে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রতি জোর দিচ্ছেন তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে সভাপতি পদে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে পুরো থানা এলাকায় যার নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় বেশী লক্ষ্য করা গেছে তিনি হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দুবারের সফল কাউন্সিলর মোহাম্মাদ ইকবাল হোসেন।
গত কয়েকদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরেজমিনে বিএনপি ও অঙ্গসংগগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এবার তারা ইকবাল হোসেনকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ইকবাল হোসেনের ছবি দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে শুরু করে থানার বিভিন্ন অলিগলিতে সাঁটানো এসব ব্যানার-ফেস্টুন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের নজর কাড়ছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য শহিদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে ফেস্টুন টানিয়ে ইকবাল হোসেনকে সভাপতি করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য শেখ জামাল তাকে আগামী দিনে থানা বিএনপির কান্ডারী তথা যোগ্য সভাপতি হিসেবে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়েছেন। আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ইকবাল হোসেনকে আগামী দিনের থানা বিএনপির সভাপতি দেখতে চেয়ে বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়ে দিয়েছেন । হিরাঝিলের বাসিন্দা মোঃ নুরুল ইসলাম, বলেন সামনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কাউন্সিলে নাসিক ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও থানা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন বিপুল ভোটে সভাপতি হবেন তার মতো এ আশংকা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
বিগত আওয়ামীলীগের ১৭ বছরের দীর্ঘ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন সংগ্রাম ও লড়াই করে অন্তত ৭৬ টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে তাকে বারবার গৃহহারা ও ফেরারী জীবনযাপন করতে হয়েছে। এমনকি নিজের গুরুতর অসুস্থ স্ত্রীকে রেখেও দলকে সংগঠিত রাখতে ও রাজপথের আন্দোলন বজায় রাখতে তিনি আত্মগোপনে থেকেছেন। রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা-হামলা ও পুলিশি হয়রানির তোয়াক্কা না করে তিনি দীর্ঘ দিন মাঠের রাজনীতিতে রাজপথ কাঁপিয়েছেন। গত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনেও ইকবাল হোসেনের নামে ১৪ টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবুও তিনি রাজপথ থেকে বিন্দুমাত্র পিছপা হননি বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়।
রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সামাজিক অঙ্গনেও তার বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা পরিচালনায় সহায়তা, সামাজিক কর্মকান্ড এবং খেলাধুলার প্রসারে ইকবাল হোসেনের অবদান অনন্য। সাধারণ মানুষের পাশে বিপদে-আপদে দাঁড়ানো ও সামাজিক নানা উদ্যোগে তার উপস্থিতি সবসময় লক্ষণীয়।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, যদি রাজনীতিতে বিগত দিনের ত্যাগ, রাজপথের ভূমিকা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয় তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি পদে ইকবাল হোসেনের নাম সবার শীর্ষে অবস্থান করবে। একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সংগঠক হিসেবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইকবাল হোসেনকে সভাপতি করে শক্তিশালী একটি কমিটি উপহার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এ ব্যাপারে মোহাম্মাদ ইকবাল হোসেন বলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সভাপতি হিসবে প্রার্থী হবেন কিনা জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন বলেন দলের জেলার নেতৃবৃন্দ যারা রয়েছেন তারা যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীরা যদি আমাকে চায় এবং দলীয় কর্মকান্ড যাতে আরও বেগবান হয় সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিতে আশাবাদী।