শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি, সকাল ৭:৫১

ঢাকা- বরগুনাগামী এমভি অভিযান ১০ লঞ্চে ভোররাতে সুগন্ধা নদীতে অগ্নিকান্ড, হতাহত বেড়ে ৪০

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান ১০ নামে লঞ্চে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে চলন্ত লঞ্চে আগুনের ঘটনায় দগ্ধ মারজিয়া আক্তার নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ৪০। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় শিমু মারজিয়া আক্তারের।হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মারজিয়ার শরীরের ৭০ ভাগ পোড়া ছিল। তাকে ভোরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠির কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ শুরু করে।দগ্ধদের মধ্যে ৭২ জনকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।জানা গেছে, লঞ্চটিতে হাজারখানেক যাত্রী ছিলেন। সুগন্ধা নদীতে থাকাবস্থায় লঞ্চটিতে হঠাৎ আগুন লাগে। পরে পার্শ্ববর্তী দিয়াকুল এলাকায় বিপর্যস্ত লঞ্চটি ভেড়ানো হয়।লঞ্চের একাধিক যাত্রী জানান, রাত ৩টার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। পরে সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। এসময় লঞ্চে বেশ কয়েকজন যাত্রী দগ্ধ হন। প্রাণে বাঁচতে অনেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। সুগন্ধা নদীর তীরে শত শত স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল ও কোষ্টগার্ডের সদর‌্যরা জানান, সুগন্ধা নদী থেকে তারা ৯ জনের মৃত দেহ উদ্দঅর করেছেন। ঝঅলকাঠি ছেরা প্রশাসক মোঃ জোহর আলী জানান, এখন পর্যন্ত তারা ৭৫ জন আহত যাত্রীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন , আহত ১৫ জন এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বরিশাল (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, দগ্ধ ৭৫ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেযা হচ্ছে। তাদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। দীঘৃ ২ বছর ধরে বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় রোগীদের সার্জারী বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে সার্জারী ইউনিটের বাইরে বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে নেই বার্ন বিশেষজ্ঞ। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে ১৫ জন বার্ন চিকিৎসক বরিশালে রওয়ানা দিয়েছেন তারা শুক্রবার বিকেলে বরিশালে পৌছবেন বলে জানাগেছে। শেবাচিম হাসাপাতালের পরিচালক জানান, ৭ জন রোগীকে ঢাকা মেপিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। এদিকে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি শুক্রবার বেলা সোয়া ১ টায় শেবাচিম হাসপাতালে আসেন। তিনি ওয়ার্ড ঘুলা ঘুরে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা