রবিবার, ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি, সকাল ৯:২২

বটি দিয়ে স্ত্রী সন্তানসহ তিনজনকে হত্যার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছেন ইয়াছিন

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজিতে স্ত্রী সন্তানসহ তিনজন হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন ইয়াছিন৷ গত বুধবার ( ১৭ এপ্রিল) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ শামসুর রহমানের আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় তিন হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে ইয়াছিন জবানবন্দী দিয়েছেন বলে আদালত পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কাইউম খান জানিয়েছেন৷ ৫ দিনের রিমান্ড হলেও ৪ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ জবানবন্দী প্রদানের জন্য ইয়াছিনকে আদালতে পাঠায়৷ জবানবন্দী শেষে ইয়াছিনকে কারাগারে পাঠানো হয়৷

এদিকে তিন হত্যাকান্ডে ব্যবহার করা বটি বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে সোমবার দুপুরে উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ এর আগে ওই একই পুকুর থেকে রক্তমাখা জামাকাপড়ভরা একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়৷ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মাদ শাহীনুর আলম বলেন স্ত্রী লামিয়া আক্তার, ৪ বছরের সন্তান আব্দুল্লাহ ও লামিয়ার বড়বোন স্বপ্না আক্তারকে লামিয়ার স্বামী ইয়াছিন একাই হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের রাস্তায় ইটাসুরকির নিচে চাপা দেয়৷ গত ১১ এপ্রিল দুপুরে লাশ তিনটি উদ্ধার করা হয় এবং ওই দিনই ঘাতক ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ ইয়াছিনের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠালে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন৷ জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক ইয়াছিন পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে সে একাই স্ত্রী সন্তান সহ তিনজনকে হত্যা করেছে৷ মাদকের টাকার জন্য উছৃংখলতা ও ভাংচুরের অভিযোগে সৎ মায়ের দায়ের করা মামলায় ইয়াছিনকে পুলিশ ২৭ রমজান গ্রেপ্তার করে৷ ঈদুল ফিতরের ২ দিন আগে ইয়াছিন জামিনে ছাড়া পায়৷ পুলিশ আরও জানায়, ইয়াছিনের স্ত্রী লামিয়া আক্তার সন্তান আব্দুল্লাহ লাবীব ও বড়বোন স্বপ্না আক্তারকে নিয়ে মিজমিজি পুকুরপাড় এলাকার আক্তার হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতো৷ ইয়াছিন জামিন আসার পর গত ৮ এপ্রিল স্ত্রী বাসায় যান৷ এ সময় লামিয়া ও ইয়াছিন এর মধ্যে ঝগড়াঝাটি শুরু হয়৷ এ সময় লামিয়ার বড়বোন মানসিক রোগী স্বপ্না আক্তার বটি নিয়ে তেড়ে আসে ৷ এ সময় ইয়াছিন স্বপ্নার কাছ থেকে বটি কেঠে নিয়ে স্ত্রী লামিয়ার গলায় কোপ দিলে দেহ থেকে গলা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ এ সময় স্বপ্না আক্তার ডাকচিৎকার দিলে ইয়াছিন স্বপ্নাকেও কুপিয়ে গলা হ হাত পা বিচ্ছিন্ন করে এবং শিশু আব্দুল্লাহর গলায় থাকা তাবিজের সুতা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে৷ এর পর সে লামিয়া ও স্বপ্নার মাথা ও হাতপা একটি বস্তায় দেহ দুটি আরেকটি বস্তায় ও কাথা কম্বলে পেচিয়ে এবংআব্দুল্লাহ লাশসহ তিনটি লাশ রাস্তার পাশে ইটাসুরকির নিচে চাপা দেয়৷ লামিয়া ও স্রবপ্ক্তনার মাখাজামা কাপড় একটি ব্যাগে ভরে ব্যাগসহ বটিটি বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে দিয়ে অত্যান্ত ঠান্ডা মাথায় লামিয়ার বাসায় বসবাস করতে থাকে এবং ঘুরে ঘুরে লাশ চাপা দেওয়াস্থানে পর্যবেক্ষণে রাখে৷৷ পুলিশের কাছে ইয়াছিন আরও জানিয়েছে ৮ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে সে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে৷ ওসি আরও জানায় আদালত ইয়াছিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছিলেন যেহেতু হত্যার দায় স্বীকার করেছে সেহেতু রিমান্ডের চতুর্থ দিনেই ইয়াছিনকে আদালতে জবানবন্দী দিতে পাঠিয়েছি৷ লামিয়া আক্তার স্বপ্না আক্তার ও আব্দুল্লাহ হত্যাকান্ডের ঘটনায় লামিয়া স্বপ্নার বোন মুনমুন আক্তার বাদী হয়ে গত ১১ এপ্রিল রাতে লামিয়া স্বামী ইয়াছিনকে প্রধান আসামী করে ইয়াছিনের বাবা মোঃ দুলাল ও বোন শিমুকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়৷

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা