রবিবার, ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি, সকাল ৭:১৩

কিশোরগ্যাং ও মাদকের কারণে সিদ্ধিরগঞ্জে চার মাসে ৯ টি হত্যাকান্ডসহ ১৪ জনের লাশ উদ্ধার

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ

নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের সাবির্ক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। একের পর এক হত্যাকান্ড,ছিনতাই,ডাকাতি সংঞটিত হচ্ছে। ব্যাপকভাবে কিশোরগ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েগেছে। পাশাপাশি অবাধে চলছে মাদকদ্রব্য কেনা বেচা। নানা অপরাধ প্রবনতাও বেড়ে গেছে ব্যাপকভাবে। সিদ্ধিরগঞ্জবাসী রীতিমতো নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের এলাকাভিত্তিক টহল না থাকাএবং পুলিশী কর্মকান্ডে ঝিমিয়ে থাকার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে বলে মনে করেন সাধারণমানুষ। সাধারন মানুষের সাথে আলাপকালে তাদের ভাষ্য অহরহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সুস্পষ্ট যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত বছরের চেয়ে চরম অবনতি ঘটেছে মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। মাদক চোরাকারবারী ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান না থাকায় অপরাধ প্রবনতা বেড়েই চলছে। খুচরা মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার করেই পুলিশ দায় এগড়াতে চাইছে বলে বাসিন্দারা মনে করেন। গত ৪ মাসে সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় ৯ টি হত্যাকান্ডসহ ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।ডাকাতি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। মাদক ও কিশোরগ্যাং এর চিত্রই অপেক্ষাকৃত কেশী লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিটি পাড়ামহল্লায় মাদকদব্য অবাধেবেচাকেনা চলছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিশোরগ্যাংদের আনাগোনা চলতে থাকে। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করারসাহ পাচ্ছেনা কারণ থানা পুলিশের ওপর মানুষের শেষ ভরসা ও আম্রয় স্থল তারাও টহলে থাকেনা যার কারণে মানুষ এসেব দেখেও না দেখার ভান করছে। মানুষ রীতিমতো আতংকের মধ্যে চলাচল করছে। পুলিশী জামেলা না থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এরা দিন দিন বেপরোয়া হয়েওঠেছে। কিশোরগ্যাং ও মাদকচোরাকারবারী তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড বিনা বাধাঁয় চালাচ্ছে।গত ৮ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজিতে স্ত্রী লামিয়া আক্তার, ও তার বড় বোন স্বপ্না আক্তারকে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করে হাত মাথা বিচ্ছিন্ন করে বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে ইটা সুরকির নিচেমাটি চাপা দেয় লামিয়ার স্বামী মোঃ ইয়াছিন। একই সময় সে তার ৪ বছরের ছেলে লাবীব আব্দুল্লাহকে শ^াসরোধ করে হত্যা করে একই জায়গায় মাটি চাপা দেয়। ১১ এপ্রিল পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং ঘাতক ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে। স্ত্রীর কাছে মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করতো ইয়াছিন। সে ছিল মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে কোন কাজ করতো না পোশাক কর্মী স্ত্রীর আয়ের ওপর নির্ভর করে চলতো ইয়াছিন। ৪ মে গোদনাইলের এনায়েতনগরে কিশোরগ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে মোঃ ইয়াছিন (১৫) নামে এক কিশোরকে হত্যা করা হয়। ২৩ মে দক্ষিণ কদমতলী ভান্ডারীপুল ধনকুন্ডা এলাকায় তর্কাতর্কির জেরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আব্দুল্লাহ খান রায়হান ওরফে পাভেল (১৬) খুন হয়। ১৪ জুন পাইনাদি নতুন মহল্লায় বাড়িয়ালা আবুল বাশারের সাথে ভাড়াটিয়া মোঃ সোহাগের সাথে বকেয়া তিন মাসের ঘর ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ভাড়াটিয়ার মারধরে গুরুতর আহত হন আবুল বাশার, তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।১৫ জুন হিরাঝিল ইসলামীব্যাংক থেকে আদমজী ইপিজেডের ইমেস এসপি প্যাকেজিং লিঃ এর ম্যানেজার মোঃ ইলিয়াছ হোসেন ও হিসাব রক্ষক নুরুল ইসলাম ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আদমজী ইপিজেডে যাওয়ার পথে হিরাঝিলের শেষ মাথায় ডিএনডি সেচ পাম্প হাউজের সামনে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা একটি প্রাইভেটকারযোগে একদল ছিনতাইকারী এসে টাকার ব্যাগ নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়৷ এ ঘটনায় ম্যানোর মোঃ ইলিয়াছ হোসেন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ এ ঘটনায় কোন আসামী গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ১৬ জুলাই পশিচম কলাবাগে মোঃ ইসমাইল মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী মিনু বেগমকে (৫৫) জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তারসৎ ২ ছেলে মোঃ জহিরুল ইসলাম ও মোঃ নজরুল ইসলাম বেধড়ক মারধর করে ।তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে সে মারা যায়। এঘটনায় মিনু বেগমের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম বাদী হয়ে সৎ দুই ভায়ের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১৮ জুলাই নিমাইকাসারী রসুলবাগে মাদকের টাকার ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে সহযোগী মাদকব্যবসায়ীরা মাসুকুল ইসলাম জনি (৩০)নামে একজনকে হত্যা করে নির্মাণাধীণ তাকওয়া টাওয়ার ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় ময়লা পানিতে ফেলে রাখে। পুলিশ অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। ২৫ জুলাই রাতে মিজমিজিবাতানপাড়া ক্যানেলপাড়ে ইব্রাহিম এর বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ বিল্লাল হোসেন স্ত্রী ইতি আক্তারের পরকীয়ার অভিযোগে ঝগড়ার এক পর্যায়ে রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে পিটিয়ে স্ত্রী ইতিআক্তারকে হত্যা করে। সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার বাসিন্দা মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ শওকত হোসেন, নিমাইকাসারী এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইউনুছ আলী, মোঃ আ্ইনুদ্দিন বলেন মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই চরম অবনতি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির।তারা আরও অভিযোগ করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের নিস্ত্রিয়তার কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। আাদমজী ইপিজেডের পোশাক কর্মী মিজমিজির বাসিন্দা মোসা ঃ রাহিমা বেগম, ও মোসাঃ জেসমিন বেগম ও রুবিনা আক্তার বলেন সিদ্ধিরগঞ্জে খুন খারাবি ছিনতাই বেড়ে গেছে এবং রাস্তারমোড়ে মোড়ে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা চলছে কিশোরগ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে।নাম প্রকাশ না করারশর্তে অনেকেই বলেন অনেক সময় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তার অভাবে কেউ থানা পুলিশ করতে চাচ্ছেনা। সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিভিণ্ন পেশাজীবির সাথে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের কার্যক্রমে ভাটার কারণে এবং পাড়ামহল্লায় পুলিশী টহল না থাকার কারণে অপরাধীরা বেপরোয়াভাবে নানা অপকর্ম করে চলছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মাদ শাহীনুর আলম বলেন ১৪ টি লাশের মধ্যে কয়েকটি রয়েছে অপমৃত্যু এবং যে কয়টি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে সব গুলোরই মামলা দায়ে করা হয়েছে এবং হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সব আসামী গ্রেপ্তার করেছি তবে ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার কোন আসামী ধরতে পারেননি বলে স্বীকার করেন।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা