সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার হয়ে শিক্ষা জীবন থেকে নাজমীনের জড়ো গেল একটি বছর। ২০১৮ সালে নাজমীন আক্তার জেএসসিতে গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক আর্থিক লাভের আশায় তাকে নবম শ্রেণীতে ভর্তি করিয়ে রীতিমতো ক্লাস করিয়েছেন পরীক্ষা নিয়েছেন এবং ২০১৯ সালে জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে ওই ছাত্রী। নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের ৩ নং ওয়ার্ডের পূর্ববাগমারা নূরবাগ (পূর্ব নিমাইকাশারী) এলাকার শাহীন মডেল স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শামীম খান প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ওই ছাত্রীকে ২০১৯ ও ২০২০ সালে নবম ও দশম শ্রেণীতে পড়িয়েছেন এবং পরীক্ষা নিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ মোতাবেক ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য ওই ছাত্রী সকল প্রস্তুতি নিয়েছেন আত্মীয় স্বজনদের দোয়াও নিয়েছেন। স¤প্রতি স্কুলের প্রিটেষ্ট পরীক্ষায় মূল বিষয় গুলোতে কৃতকার্য হলেও অতিরিক্তসহ ৩ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক ছাত্রী ও তার মাকে জানায় এবার নাজমীন এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারবেনা সে ৪ বিষয়ে প্রিটেষ্টে ফেল করেছে। ছাত্রীর মা জেসমিন আক্তার জানায়,স্বামীহারা অভাব অনটনের সংসারে তিনি একটি পোষাক কারখানায় চাকরী করে সংসার চালান, নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন আমার মেয়ের শিক্ষা জীবন ধংস করে দিয়েছেন। গত ২ বছর আমার মেয়েকে নবম ও দশম শ্রেণীতে পড়িয়েছেন প্রধান শিক্ষক । ছাত্রীর মা বলেন স্কুলের সকল বেতন পরীক্ষার ফি এবং সেশন ফি সব কিছুই দিয়েছি কিন্তু প্রধান শিক্ষক গত ২ বছরে টাকার কোন রশিদ না দিয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে দেব বলে আর রশিদ দেয়নি এখন টাকা দাবি করছেন। নাজমীনের ছাড়পত্র চাইলে স্কুলের টাকা প্রদান না করলে প্রধান শিক্ষক জেএসসির ছাড়পত্র দিবেন এবং নাজমীনকে আবারও নবম শ্রেনীতে ভর্তি হতে হবে বলে কটু ভাষায় জানিয়েছেন। নাজমীনের মা জেসমিনের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোঃ শামীম খান বলেন, ওই ছাত্রী ঠিকমতো ক্লাস ও কোচিং করেনি এবং কোন টাকা প্রদান করেনি। নাজমীন আক্তার ২০১৮ সালে জেএসসিতে ফেল করে কিভাবে নবম শ্রেণীতে ভর্তি করানো হলো কিভাবে ২০১৯ তার রেজিষ্ট্রেশন করানো হলো ,প্রিটেষ্ট পরীক্ষা নেওয়া হলো,এবং কিভাবে সে ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিবে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন করোনার সময় আমি ৮ মাস স্কুল থেকে লিভ নিয়েছিলাম তাই কিছুই বলতে পারছিনা বলে দায়ভার এড়িয়ে বলেন ওই ছাত্রী বিষয়ে আমি পিছনের দিকে যেতে পারবোনা সামনে ফলো করছি।।অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক আরও কয়েকজন ছাত্র ও ছাত্রীর সাথেও এ রকম ঘটনা ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ধংস করে দিয়েছেন। ঠিক তেমনি নাজমীন আক্তারেরও জীবন থেকে ১ টি বছর কেড়ে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। মজার বিষয় হচ্ছে যেহেতু শাহীন মডেল স্কুলটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল। এ স্কুলের পিইসি ও জেএসসি শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন করানো হয় ডেমরার হাজী রহমত উল্যাহ ফোরকানীয়া হাইস্কুল থেকে। ওই স্কুলের গিয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ নূরুল হক এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, নাজমীন আক্তার এর নবম শ্রেণীর রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে ২০২০ সালে, সে ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবেনা, রেজিস্ট্রৈশন মোতাবেক তবে ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই ছাত্রী। শাহীন মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতি ও প্রতারনার শিকার হয়ে স্কুল ছাত্রী নাজমীন ও তার মা এখন বুঝতে পারছেন প্রধান শিক্ষকের কথা বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছেন এবং ঠকেছেন। সহপাঠীদের সাথে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারবেনা তাই নাজমীন আক্তার ডুকরে ডুকরে কাঁদছে।