সীতাকুন্ডা ( চট্রগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
ডিবি পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর টাকা লুটের ঘটনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার তাকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। নতুন ওসির দায়িত্ব পেয়েছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার ইন্সপেক্টরের (তদন্ত) দায়িত্বে ছিলেন। সোমবার রাতে ফিরোজ হোসেন মোল্লা নবাগত ওসিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।জানা যায়, গত ২০ ডিসেম্বর জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানার বিনোদেরচর গ্রামের জহুরুল হকের ছেলে ব্যবসায়ী আবু জাফর সীতাকুণ্ডে আসেন একটি পিকআপ গাড়ি কেনার উদ্দেশ্যে। এ সময় তার সঙ্গে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকাও ছিল। কিন্তু দরদামে না মেলায় গাড়িটি না কিনে সন্ধ্যায় ফিরে যাওয়ার সময় পৌর সদর বাসস্ট্যান্ডে শ্যামলী বাস কাউন্টারে দুই পুলিশ সোর্স রিপন ও হারুন তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন সীতাকুণ্ড থানার এসআই সাইফুল আলম ও ওসির দেহরক্ষী কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম। তারা সেখানে এসে নিজেদের ডিবি বলে পরিচয় দিয়ে আবু জাফরের পেটে ইয়াবা আছে বলে ভয় দেখিয়ে একটি সাদা এক্স-করোলা গাড়িতে তুলে স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করেন। এক্স-রে করে কিছু না পাওয়া গেলেও শেষে তার সবকিছু কেড়ে নিয়ে পুনরায় শ্যামলী কাউন্টারে নিয়ে বাসে তুলে দেন।পরে তিনি ঢাকায় গিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তার কাছে ঘটনাটি খুলে বললে ওই কর্মকর্তা বিষয়টি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস.এম রশিদুল হককে জানান। পুলিশ সুপার সব শুনে সীতাকুণ্ড সার্কেলের এডিশনাল এসপি আশরাফুল করিমকে ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিলে তদন্তে তিনি এসআই সাইফুল আলম, কনস্টেবল সাইফুল ইসলামসহ পাঁচজনের ডাকাতির প্রমাণ পান। এর ফলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ভুক্তভোগী ব্যক্তি গত ২৫ ডিসেম্বর সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা করেন।চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার এস.এম রশিদুল হক সাংবাদিকদের জানান, ব্যবসায়ীর টাকা ডাকাতি করার অপরাধে এসআই সাইফুল আলম ও কনস্টেবল সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার শেষে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটির দায় এড়াতে পারেন না এমন অভিমতের ভিত্তিতে ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লাকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার একাধিক সূত্র জানায়। পুলিশ সুপার বলেন, প্রত্যাহারের বিষয়টি পুলিশের নিয়মিত রুটিন কাজ।