স্টাফ রিপোর্টারঃ
৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের আওতাধীন কাঁচপুর হাইওয়ে থানা। গত ৪ মাসে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ দীর্ঘ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে পোষ্টমর্টেম করে নিজ খরচে দাফন কাজ সম্পন্ন করেছেন কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জমান। একটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, পোষ্টমর্টেম করতে পাঠানো এবং সেখান থেকে লাশ এনে দাফন কাজ করতে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা লেগে যায়। এই টাকা ও তাকে বহন করতে হচ্ছে।অনেক কবরস্থানে অজ্ঞাতনামা লাশ দাফনে এলাকাবাসীরা বাঁধা পর্যন্ত দিয়েছেন। তবে এখন অনেকটাই শিথিল হয়েছে।এলাকা ভিত্তিক চেয়ারম্যান মেম্বারদের অনুরোধ করে অজ্ঞাতনামা লাশ দাফন করতে হচ্ছে বলে কাঁচপুর াইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন। নানা প্রতিকুলতা অতিক্রম করে চলতে হচ্ছে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশকে। একদিকে তাদের লোকবল কম সেই সাথে মহাসড়কে ডিউটির জন্য যানবাহন সংখ্যাও কম। মহাসড়কে লাশ পড়ে থাকলে সোনারগাঁ, রুপগঞ্জ, বন্দর থানা লাশ উদ্ধার করেনা। সেক্ষেত্রে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশই একমাত্র লাশ উদ্ধার করে প্রথমে থানা কম্পাউন্ডে নিয়ে রাখে। সেখানে লাশ রাখা হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। আনুষঙ্গিক কাজ সেরে লাশ পোষ্টমর্টেম করার জন্য পাঠানো হয়। এই সময়ে লাশ ব্যান গাড়িতে খোলা আকাশের নিচে রাখেতে হচ্ছে।আসছে বর্ষার মৌসুম সে সময়ে লাশ রাখার মতো কোন ব্যবস্থাই নেই। তবে সামনের বর্ষা মৌসুমের কথা ভেবে থানা কম্পাউন্ডে একটি শেড নির্মাণের জন্য কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ হাইওয়ে পুলিশ রিজিয়ন গাজীপুর পুলিশ সুপার আলী আহাম্মদ খান এর সাথে আলাপ করেন। পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান এক্ষেত্রে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামানকে শেড (ছাউনি) নির্মাণের মত দিয়েছেন। খুব শ্রীঘ্রই শেড নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অফিসার ইনচার্জ। ইতিমধ্যে তিনি নবরুপে থানাকে সাজিয়েছেন।। থানা কম্পাউন্ডের চেহারা যেমন পাল্টে দিয়েছেন ঠিক তেমনি পাল্টে দিয়েছেন এই থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের অতীতের সকল অভিযোগ ক্ষোভ ও গ্লানি। মানুষের সেবার স্থানে রুপান্তরিত করে তুলেছেন থানাকে। কেউ এখন এই থানায় গিয়ে কোন প্রকার হয়রানির শিকার হচ্ছেনা। খুব সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন কাঙ্খিত সেবা। হাইওয়ে পুলিশের কোন সদস্যের বিরুদ্ধেও এখন মানুষের নেই কোন অভিযোগ। আর এ কাজটি করতে সক্ষম হয়েছেন গত ১৩/৯/২০২০ তারিখে টাঙ্গাইলের গোড়াই হাইওয়ে থানা থেকে কাঁচপুর হাইওয়ে থানায় যোগদানকারী অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান। তিনি আরও জানান, অতীতে এই থানায় কে কি করেছে মানুষ কতটুকু সেবা পেয়েছে সেটা আমি বলতে চাইনা, আমি কতটুকু সেবা মানুষকে দিতে পারছি এবং পারবো সেটাই মূখ্য বিষয়। তিনি বলেন, মানুষকে সেবা দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্যও উদ্দেশ্য। এই থানার সকল পুলিশ সদস্যকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, অবৈধপন্থা অবলম্বন করলে, মানুষকে সেবা থেকে বঞ্চিত করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত ১৩ই সেপ্টম্বর ২০২০ সালে কাচঁপুর হাইওয়ে থানা ওসি হিসেবে মনিরুজ্জামান যোগদান করেন, যোগদানের পর থেকে কাচঁপুর হাইওয়ে থানার রুপ পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন করেছেন। যাচ্ছেন।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা ঘাট এর দুইপাশে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারনে এখানকার পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রন রয়েছে। প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী কোনো ভাবেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না নিয়ম অমান্যকারীদের। হাইওয়ে প্রধান অতিরিক্ত পুলিশের আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম বিপিএম ,পিপিএম এর নির্দেশনায় এবংপুলিশ রিজিয়ন গাজীপুর পুলিশ সুপার আলী আহাম্মদ খান এর তদারকিতে মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি হুইলার, নসিমন, অটোরিক্স্রা,ইজিবাইক,সিএনজি মহাসড়কে চলতে দেওয়া হচ্ছেনা বলে ওসি জানান।