রবিবার, ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি, সকাল ৯:২২

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ৯০ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে পুলিশের ১৬টি পার্টির মধ্যে ২ টি পার্টি হাইওয়ের

শাহজাহান জনিঃ
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ৯০ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা, রুপগঞ্জ, সোনারগাঁ, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ,আড়াইহাজার, থানা এবং একাধিক পুলিশ ফাঁড়ি এবং নারায়নগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশসহ ১৬ টি পার্টি ডিউটি করে। এর মধ্যে মাত্র ২ টি পার্টি রয়েছে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের। কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের লোকবল ও যানবাহন সংকট থাকা সত্বেও এই দীর্ঘ ৯০ কিলোমিটার মহাসড়ক ২ টি পার্টি পালাক্রমে টহলে রাখছেন কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান। সাধারন মানুষ মনে করে মহাসড়ক যেহেতু কাঁচপুর হাইওয়ে থানার আওতাধীন সেহেতু যত প্রকার সমস্যা আছে মহাসড়কে সব কিছুই কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের। জেলা ট্রাফিক বিভাগের টিআই,সার্জেন্ট , এটিএসআই, এবং অন্যান্য থানার টহল পুলিশ, ফাঁড়ির পুলিশ যখন কোন যানবাহন আটক করে সাধারন মানুষ মনে করে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ বানিজ্যে মেতে উঠেছে। জেলা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশের পোষাক একই ধরনের । হাইওয়ে পুলিশের পোষাকে লেখা থাকে হাইওয়ে পুলিশ যা দূর থেকে বোঝার কোন অবকাশ নেই। শুধু সাধারন মানুষ কেন, বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ, আইনজীবি, সংবাদকমীর্, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণীর মানুষ স্বভাবতই মনে করেন মহাসড়কে যানবাহন পুলিশ কর্তৃক আটক দেখলই হাইওয়ে পুলিশের উপর অনার্থক বাজে মন্তব্য করে থাকে। বাস্তব কি তা জানতেও চায় না বুঝতেও চায়না কেউ। তারাব বিশ্বরোডে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের একজন সিনিয়র টিআই ও রেকারের দায়িত্বে একজন এটিএসআই আছেন। মহাসড়কের ওই পয়েন্টে তারা গাড়ির নামে মামলা, রেকারিং করে থাকেন, ভুলতা গাউছিয়া,, মদনপুর,গোলাকান্দাইল,, সাইনবোর্ড, শিমরাইলমোড়সহ সব স্পটেই জেলা ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে, এছাড়াও সোনারগাঁ, থানা, বন্দর থানা, কামতাল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ, রুপগঞ্জ থানা পুলিশ,আড়াইহাজার থানা পুলিশ, ভুলতা ফাঁড়ির পুলিশসহ স্ব স্ব থানা পুলিশও মহাসড়কে কাজ করে। তাই সাধারন মানুষের ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এ লেখাটি সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন পেশার সচেতন মানুষের মুখ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদটি পরিবেশন করা হয়েছে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ মহাসড়কে কোন প্রকার গাড়ি আটক বাণিজ্যে নেই বলে বিভিন্ন স্পটের স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জমান গত ৫ মাসে মহাসড়ক থেকে একাধিক ডাকাত, ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।, মহাসড়কের পাশে অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছেন। তার কঠোর নজরদারির কারণে ৯০ কিলোমিটার মহাসড়ক এখন অনেক নিরাপদ বলে মনে করেন যানবাহনের সাথে সংশি­ষ্টসহ নারায়নগঞ্জবাসী। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার কোন পুলিশ সদস্য যদি কাউকে হয়রানি করে টাকা দাবি করে তবে এ তথ্য সরাসরি ওসি মনিরুজ্জমানকে জানানোর জন্য ওসি নিজেই সব সময় সবাইকে বলে থাকেন। তিনি আরও বলেন, আমরা জনগনকে সেবা দিতে এসেছি, আমরা আমাদের সীমিত লোকবল নিয়ে সাধ্যমতো সেবা করার চেষ্টা করছি, এক্ষেত্রে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ অতীতে এই কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের অনেক দুর্নাম বদনাম ছিল। থানায় কোন প্রকার সেবা মিলতো না, মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হতো। তখন মহাসড়ক ছিল অনেক ঝঁুকিপর্ণ। কিন্তু টাঙ্গাইলের গোড়াই থানার ওসি মনিরুজ্জামান গত ৫ মাস পূর্বে বদলী হয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানায় যোগদান করার পর থেকে থানার চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। লোকজন সেবা নিতে থানা মুখী হতে থাকে। স্থানীয়রা আরও বলেন, ওসি মনিরুজ্জামন এই থানায় যোগদান করার পর মহাসড়কে থ্রী হুইলার যানবাহন, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, ব্যাটারি চালিত রিকশা, সিএনজি, লেগুনা চলাচল বন্ধ করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। মহাসড়কে বৈধ যানবাহন চলাচলের জন্য কাজ করছেন। তিনি অবৈধ যানবাহন এর বিরুদ্ধে সর্বদা সতর্ক রয়েছেন বলে জানান পরিবহনের নেতৃবৃন্দ।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা