শাহজাহান জনিঃ
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে শিমরাইল-আদমজী- নারায়ণগঞ্জ সড়কের মধ্যে জনস্বার্থে ড্রেন নির্মাণ এখন জনদুর্ভোগ হয়ে ওঠেছে। সড়কের মধ্যে ৩৫ ফুট ড্রেন নির্মাণ করার কারণে ওই সড়কের সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়ক বন্ধ করে মাটি খোঁড়াখুড়ি ও ড্রেন নির্মাণসহ প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য এখনো খুলে না দেওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েই চলছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে অপরদিকে চরম ভোগান্তির স্বীকার আদমজী ইপিজেডের অর্ধলক্ষ শ্রমিকসহ লাখ লাখ পথচারীসহ স্থানীয়রা। বৃষ্টির সময় মহাসড়কের শিমরাইলে হাটু পানি জমে যায়। পানি সরানোর জন্য ১৪ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে সড়ক কেটে ৩৫ ফুট ড্রেন নির্মাণ করে কিউরিং করে রাখার কারণে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে। তবে বিকল্প সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে বলে নারায়ণগঞ্জ সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আহসান উল্ল্যাহ মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷ তিনি দুর্ভোগের কোন কারণ নেই বিকল্প সড়কটি খোলা আছে৷
( ৯ জুন)মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রী ও পথচারীদের সাথে আলাপকালে তারা তাদের এই দুর্ভোগের কথা জানান। অটারিকশা চালক মোঃ বাচ্চু মিয়া বলেন, শিমরাইল থেকে আদমজী কিংবা নারায়ণগঞ্জ যেতে পারছিনা শিমরাইলে সড়কের মধ্যে সড়ক কেটে ড্রেন নির্মাণ করার কারণে মটির স্তুপ করে সড়ক বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সিএনজি চালক মোঃ ওমর বাবু বলেন শিমরাইল থেকে আদমজী কিংবা নারায়ণগঞ্জ যেতে হলে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হয় রাস্তার মধ্যে ড্রেন করার কারণে মাটির স্তুপ করে সড়ক বন্ধ করায় আমরা দুর্ভোগে পড়েছি তেমনি যাত্রীরাও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মুমুর্ষ রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও এখানে এসে ফের ঘুরে যাচ্ছে অন্য পথে এতে বিড়ম্বনার স্বীকার সর্ব সাধারন। শিমরাইলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য কমিইনটি পুলিশ সদস্য মোঃ শহিদ বলেন ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশেই শিমরাইল- আদমজী – নারায়ণগঞ্জ সড়ক্ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন বিকল্প রাস্ত দিয়ে। রাস্তা বন্ধ থাকায় এই অংশে যানজটের পাশাপাশি ধুলোবালি, কাঁদা ও ভাঙাচোরা রাস্তা কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আদমজী ইপিজেড এর নারী শ্রমিক ইয়াসমিন আক্তার , সাবিনা ও মরিয়ম বলেন রাস্তা কেটে ড্রেন করার কারণে মাটির স্তুপ করে রাখার কারণে বৃষ্টি হলেই কাঁদামাটিতে হেঁটে চলা দায়। পা পিছলে প্রতিদিনই মানুস দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। গোদনাইল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে প্রতিদিন শত শত ট্যাংকলরী বিমাসের জ্বালানী তেল বহন করে লরীগুলো শিমরাইরের এই অংশে এসে বাধাঁগ্রস্ত হয় বলে ট্যাংকলরী চালক বিল্লাল হোসেন ও মোঃ আমির হোসেন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপায় না পেয়ে তারা বিকল্প পথে অনেক দূর ঘুরে ঢাকায় যেতে হচ্ছে তেলবোঝাই ট্যাংকলরী গুলোকে। আদমজী ইপিজেডের পন্যবাহী কনটেইনার কাগো গুলোও এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে দীর্ঘ এক মাস ধরে।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আহসান উল্ল্যাহ মজুমদার বলেন জনগনের স্বার্থে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ২৩ দিন হয়েছে মাত্র। ২৮ দিন কিউরিং করে রাখার নিয়ম থাকলেও তবে আমরা সর্বসাধারণের জন্য খুব দ্রুত সড়কটি খুলে দিব । প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আহসান উল্ল্যাহ মজুমদার আরও বলেন যেহেতু কাঁচপুর সেতুর নিচ দিয়ে একটি বিকল্প সড়ক রয়েছে তাই আমরা এখানে একটু বেশী সময় নিচিচ্ছ ড্রেনটির ঢালাই শক্ত হওয়ার জন্য । যেহেতু প্রতিদিন লোডবাহী কার্গো লরীসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে তাই ঢালাই শক্ত হওয়ার জন্য কিছুটা সময় নিয়েছি বিকল্প সড়ক থাকার কারণে। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরও বলেন বৃষ্টি হলে শিমরাইলে মহাসড়কে পানি জমে জনসাধারণের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাই দুর্ভোগ দূরীকরনের জন্য এই ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে৷