রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
১৩ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি, রাত ১২:১১

কক্সবাজারে নারী পর্যটক ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও তার স্বামীকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজার সৈকতে বেড়াতে আসা নারী পর্যটককে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় শুক্রবার বেলা দুইটা পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনার তদন্তে মাঠে নেমেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ওই নারী ও তার স্বামী বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তাদের আদালতে নেওয়া হতে পারে।এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. জিললুর রহমান বলেন, ‘ওই নারীকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তিন মাস ধরে কক্সবাজারে অবস্থানের পাশাপাশি প্রধান আসামি আশিকুল ইসলামের সঙ্গে ওই নারীর পূর্বপরিচয় থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আশিক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। ১৬ মামলার আসামি, মাদকসেবক ও মাদক ব্যবসায়ী একজন মানুষের সঙ্গে বাইরের আরেকজন নারীর পরিচয় থাকা সন্দেহজনক। আমরা ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। আশিকুল ইসলামসহ এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন আশিকের দুই সহযোগী ইস্রাফিল খুদা ওরফে জয় ও মেহেদী হাসান ওরফে বাবু এবং রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন ছোটন। এর মধ্যে রিয়াজ উদ্দিনকে গত বুধবার রাতে আটক করে র‌্যাব। ঘটনার পর থেকে মামলার অন্য আসামিরা আত্মগোপনে আছেন। সন্ত্রাসী আশিকের সঙ্গে রিয়াজের চেনাজানা ও বন্ধুত্ব রয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ জানায়, আশিকের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা, ছিনতাই, নারী ও শিশু নির্যাতন, অস্ত্র, মাদকসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। সবশেষ গত ৭ নভেম্বর একটি ছিনতাই মামলায় পুলিশ আশিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। ১৬ ডিসেম্বর কারাগার থেকে বেরিয়ে পর্যটক নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়।গত ২২ ডিসেম্বর কক্সবাজারে বেড়তে আসা স্বামী মস্তান নিয়ে এক নারীকে সন্ধ্যায় সৈকতের লাবনী পয়েন্টের গলফ মাঠ থেকে তুলে নিয়ে সংঘব্ধ ধর্ষণ করে এবং ওই নারীর স্বামী ও ৮ মাসের সন্তানকে একটি সিএনজিতে তুলে নেয়। গলফ মাঠের এক ঝুপড়ির ঘরে নিয়ে ৩ নরপশু ধর্ষণ করে এবং এ ঘটনা কাউকে বললে স্বামী ও সন্তানকে হত্য করা হবে বলে হুমকি দিয়ে ওই নারীকে জিয়া গেস্ট ইন হাউসে নিয়ে একটি কক্ষে আটক করে নরপশুরা ইয়াবা সেবন করে দ্বিতীয় দফায় ধর্ষণ করে হোটেল কক্ষের বাইরে দিয়ে দরজা বন্ধ করে চলে যায়। পরে ওই নারী ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশী সাহায্য চাইলে কক্সবাজার মডেল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা ওই নারীকে থানায় গিয়ে জিডি করার পরামর্শ দেন। পরে উপায় নেই পেয়ে হোটেলের জানালা দিয়ে বাইরের এক লোকের সহায়তায় র‌্যাবকে ফোন করলে রাত দেড়টা দিকে র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে এবং গলফ মাঠ থেকে তার স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।পুলিশ জিয়া গেষ্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে গ্রেপ্তার করেছে, মূল আসামীদের গ্রেপ্তারে ভিযান চলছে বলে জানাগেছে।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা