বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি, সন্ধ্যা ৭:০৪

সিদ্ধিরগঞ্জে মায়ের হাতে ছেলে খুনের অভিযুক্ত সেই মায়ের লাশ নরসিংদীর হোটেল থেকে উদ্ধার

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনদিতে ছেলে হত্যাকাণ্ডের পর পলাতক মায়ের মরদেহ নরসিংদীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে নরসিংদী শহরের বাজিড়মোড়ের নিরালা নামক আবাসিক হোটেল থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে নরংিদীর সদর মডেল থানা পুলিশ।সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, নরসিংদীতে উদ্ধার হওয়া লাশটি নাছরিনের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছেএবং বাবার নাম ও চেহারায় মিল পেয়েছি আমরা। লাশ শনাক্ত করতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।তবে ওই নারীর নাম নাছরিন হলেও হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম রেহানা আক্তার লেখা ছিলো। নাবিলের বাবা ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা ছগির আহমেদ এর অভিযোগ ,গত রোববার (৩০ মে) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে যেকোন এক সময় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জে নাজমুছ সাকিব নাবিল (২০) নামে আলীম পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ঘরের মধ্যে রেখে বাইরে দিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় মা। ছগির আহমেদ সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরে ঘরের বাইরে দিয়ে তালাবদ্ধ দেখে তার কাছে দ্বিতীয় চাবি দিয়ে ঘরের দরজা খুলে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাককে দেখে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেঝ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ২ টায় সেখানেই নাবিলের মৃত্যু হয়। নাবিলের মৃত্যুর জন্য নিহতের মা নাছরিন আক্তারকে দায়ী করছেন বাবা ছগির আহমেদ। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নাছরিন আক্তারকে আসামি করে গত সোমবার একটি হত্যা মামলাও দায়ের করেন। তবে ঘটনার পর থেকেই নাছরিন পলাতক ছিলেন। গত সোমবার বিকেলে নরসিংদী শহরের বাজীরমোড়ে একটি আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিরালা নামের আবাসিক হোটেল থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।হোটেলটির রেজিস্টারে ওই নারীর নিজের নাম লিখেছিলেন রেহানা আক্তার। বাবার নাম লিখেছিলেন আবু তাহের এবং মায়ের নাম ফাতেমা জোহরা। ঠিকানা উল্লেখ করেছেন নরসিংদীর মাধবদীর ডৌকাদি গ্রাম। তবে রেজিস্টারে পাওয়া তাঁর নাম-পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোববার (৩০মে) সন্ধ্যার পর ওই নারী একাই হোটেলে রাত্রিযাপন করতে আসেন। ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, গাজীপুর থেকে তিনি এসেছেন। রাত হয়ে যাওয়ায় হোটেলে থাকতে চান। রেজিস্টারে নাম-ঠিকানা লেখার পর ওই নারীকে হোটেলটির নিচতলার ৬ নম্বর কক্ষ দেওয়া হয়। ওই সময় তিনি একটি পলিথিনের ব্যাগে করে রাতে খাওয়ার জন্য নাশতা সঙ্গে এনেছিলেন। এরপর তিনি আর ওই কক্ষ থেকে বের হননি। সোমবার সকালে তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেন হোটেলটির কর্মচারীরা। পরে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মুঠোফোনে ঘটনা জানানো হয়। দুপুরের দিকে পুলিশ এসে ওই কক্ষের দরজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।পুলিশ বলছে, খবর পেয়ে দুপুরের দিকে তারা ওই আবাসিক হোটেলে গিয়ে নারীকে ডাকাডাকি করে। সাড়া না পেয়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দরজা ভেঙে ওই কক্ষে প্রবেশ করে পুলিশ। এ সময় গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় তারা। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, ওই নারী আত্মহত্যা করার জন্যই গতকাল হোটেলটিতে উঠেছিলেন। তবে যে মুঠোফোন নম্বরটি তিনি রেজিস্টারে উল্লেখ করেছিলেন, তা বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি মুঠোফোনটি সঙ্গে এনেছিলেন কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সার্বিক দিক মাথায় রেখে তদন্ত করছে পুলিশ।এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলটির ম্যানেজারকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, নাবিল হত্যাকান্ড কি করেেণ এ ঘটনায় মা নাছরিন ছাড়াও আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাঝরিনের লাশ পোষ্টমর্টেম শেষে সোনারগাঁয়ের স্বামীর বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে ওসি মশিউর রহমান জানিয়েছেন।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা