স্টাফ রিপোর্টারঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৭ বছর বয়সী শিশু সন্তান আবদুল্লাহকে খুনের ঘটনায় তার সৎ বাবা আরিফকে (৩২)গতকাল বুধবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা।এর আগে গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপেরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর বাগানবাড়ী এলাকার জাহাঙ্গীরের বাড়ীর ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত আবদুল্লাহ যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকায় জুয়েল মিয়ার ছেলে। সে বর্তমানে তার মায়ের সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর বাগানবাড়ী এলাকার জাহাঙ্গীরের বাসায় বসবাস করতো। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুলাহর মা স্বপ্না আক্তার (২৭) এবং সৎ পিতা আরিফের সাথে সিদ্ধিরগঞ্জের জাহাঙ্গীরের বাসায় বসবাস করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত আরিফ গত ২৪ এপ্রিল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু আব্দুলাহকে বিভিন্ন অজুহাতে মারধর করতে থাকে। মারধরের একপর্যায়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় টাঙ্গানো মইয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে ঝুলিয়ে মারধর করে এবং দুই পা ধরে শূন্যে ভাসি রেখে দেয়ালের সাথে সজোরে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে গুর“তর জখম করে ফেলে দেয় রাস্তায়। পরে ভুক্তভোগীর মা স্বপনা শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে সেবা যতœ করতে থাকে। রাতে শিশুটি জ্বরে কাপতে থাকলে ভুক্তভোগীর মা তাকে ডাক্তারের কাছে নিতে চাইলে আরিফ ডাক্তারের কাছে নিতে বাধা প্রদান করে বলে অভিযোগে জানা যায়। শিশুটির অবস্থা আরও খারাপ হলে গত ২৫ এপ্রিল সকালে আরিফসহ মাতুয়াইল মাতৃ সনদ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে শিশুটিকে নিয়ে তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু আব্দুল্লাহকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তখন বিবাদী আরিফ মৃত শিশু ও তার মাকে সিএনজিতে তুলে দিয়ে শিশুটিকে দাফন করার পরামর্শ দিয়ে চলে যায়।মৃত আব্দুলাহর মা স্বপনা আক্তার বিবাদী আরিফের কথামত শিশু আব্দুল্লাহকে নিয়ে সাবেক স্বামীর বাড়ী যাত্রাবাড়ীর কাজলায় দাফন করেন। গতকাল বুধবার সকালে পরবর্তীকালে স্বপ্না আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। এই ঘটনায় জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে জানাগেছে. স্বপা আক্তারের পূর্বে বিয়ে হয়েছিল জনৈক জুয়েল নামে এক ব্যক্তির সাথে সেখানে বনিবনা না হওয়ায় ডিভোর্স হওয়ার পর ছেলে আব্দলাহকে নিয়ে বাবার বাড়ি বসবাস করতে থাকেন। পরবর্তীতে চাকুরীর সুবাধে পরিচয় হয় আরিফের সাথে। পরিচয় সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে উভয়ের মধ্যে । গত ১৪ -২-২০২৩ তারিখে আরিফ স্বপ্নাকে বিয়ে করে সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুরের বাগানবাড়ির জাহাঙ্গীরের বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন। বিবাহের পর থেকে স্বামী আরিফ শিশু আব্দুলাহকে সহ্য করতে পারতেননা বলে প্রায়ই মারধর করতো। গত ২৪-৪-২০২৩ তারিখ ও ২৫-৪-২০২৩ তারিখ বেধড়ক মারধর দুইপা ধরে উপরে ঝুলিয়ে দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত ও উপর থেকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এর পরই গুরুতর অসুস্থা হয় আব্দুলাহ। পরে মাতুয়াইল হাসপাতালে নেয়া হয় এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার আব্দুলাহকে মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুলাহকে খুনের ঘটনায় তার মা মামলার করার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুলাহর ঘাতক আরিফকে গতকাল বুধবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে। আরিফের পিতার নাম মৃত চাঁন শাহ, গ্রামে বাড়ী কুমিলার বেীদ্দার থানার দামতি এলঅকায় তার বাড়ি। সে যাত্রবাড়ীর কুতুবখালীতে বসবাস করতো ।