সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া পুকুরপাড় এলাকার একটি বাড়ির পাশে রাস্তায় ইটাসুরকি নিচে চাপা দেওয়া ও বস্তাবন্দি অবস্থায় দুই নারী ও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইয়াসিনকে (৪০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতরা হলো স্বপ্না আক্তার(৩৫) ও তার বোন লামিয়া আক্তার (২২) এবং তার শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ লাবীব (৪) । গতকাল শুক্রবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া বড়বাড়ি পুকুরপাড় এলাকার আক্তার হোসেনের বাড়ির পাশে রাস্তায় ইটসুরকি নিচ থেকে লাশ তিনটি উদ্ধার করা হয়। স্বপ্না ও লামিয়ার মাথা ও পা বিচ্ছিন্ন ছিল৷ পাশাপাশি তিনটি লাশ ইটাসুরকির নিচে সিমেন্টের বস্তায় ভরে চাপা দিয়ে আবারও ইটা সুরকি ও বালু মাটি দিয়ে চাপা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান৷
ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ইটা সুরকির নিচ থেকে একটি হাত দেখতে পায় এলাকাবাসীএবং সেখান দূর্গন্ধ পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ইটের শুরকির নিচ থেকে চাপা দেওয়া অবস্থায় লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। এসময় স্বপ্না ও লামিয়ার মাথা এবং পা বিচ্ছন্ন অবস্থায় লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। আরেকটি বস্তায় শিশু লাবিবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিক স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই নিহত লামিয়ার স্বামী ইয়াসিনকে ঘটনাস্থলের আশেপাশে ঘুরতে দেখেন এলাকাবাসী। লাশ উদ্ধারের সময়ও সে ঘটনাস্থলে ছিল। পরে নিহতের বোন মুনমুন লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিচয় শনাক্ত করেন। তখন এলাকাবাসী সন্দেহজনকভাবে ইয়াসিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ইয়াসিনের বাবার নাম মোঃ দুলাল৷ সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকায় তার বাড়ি৷ সে স্ত্রী লামিয়া, স্ত্রীর বড়বোন স্বপ্না ও তারএকমাত্র সন্তান আব্দুল্লাহ লাবীবকে নিয়ে একই এলাকা আক্তারের বাড়িতে ভাড়া থাকতো৷
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) তারেক আল মেহেদী জানান, আমরা দুজন নারী ও একজন শিশুর লাশ উদ্ধার করেছি। এদের মধ্যে দুজন নারীর দেহ খন্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এবং শিশুটিকে অখন্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনায় সাথে জড়িত সন্দেহে নিহত লামিয়ার স্বামী ইয়াসিনকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিহত স্বপ্না ও লামিয়ার বড় খালা শিরিন বেগম বলেন, আমার বোনের মেয়েরা বাবা-মা হারা। লামিয়া প্রেম করে বিয়ে করেছে৷ সে একটি সন্তানের মা। আর তার বড় বোন স্বপ্না ছিলো মানসিক ভারসাম্যহীন। চারদিন যাবত তাদের খোঁজ পাচ্ছিলাম না।আজ এসে দেখি আমার বোনের ২ মেয়ের খন্ডিত লাশএবংলামিয়ার ৪ বছরের ছেলে আব্দুল্লাহ লাবীবের লাশ ৷ দুই বোনের মধ্যে লামিয়ার স্বামী একজন বখাটে ও মাদকাসক্ত ছিল৷ তাদের সংসারের প্রায় সময় ঝগড়াঝাটি হতো আমরা জানি না কে তাদের হত্যা করেছে। কিন্তু আমরা এর সঠিক বিচার চাই। তবে তিনি লামিয়ার স্বামীকে এ হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী করেছেন৷
এদিকে নিহতদের বোন মুনমুন জানান, লামিয়ার স্বামী ইয়াসিন ঈদের তিন দিন আগে জেলখানা থেকে ছাড়া পায়। ইয়াসিন মাদকাসক্ত এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল বলে মুনমুন জানিয়েছেন৷ । তার দুই বোন এবং ভাগিনাকে ইয়াসিনই হত্যা করেছে বলে দাবি মুনমুনের। এদিকে স্থানীয়রাও ইয়াসিনের কঠিন শাস্তি দাবী করেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও মনির হোসেনসহ এলাকাবাসী বলেন ইয়াসিন পেশায় অটোচালক হলেও পাশাপাশি সে মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত ছিল। এ বিষয়ে প্রায় সময়ই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো। নিহত লামিয়া একজন পোশাক শ্রমিক ছিলেন বলে জানান তার বোন মুনমুন। নিহত আরেক বোন স্বপ্না মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলেন বলে জানায় তার বোন । সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মাদ শাহীন আলম বলেন নারী ও শিশুসহ তিনজনকে হত্যা করে সুরকির নিচে বস্তায় ভরে চাপা দিয়েছে৷