স্টাফ রিপোর্টারঃ
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন সমস্যার কারণে বিশৃঙ্খলা ও হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। মহাসড়ক জুড়ে বিভিন্ন পরিবহনের যত্রতত্র ষ্ট্যার্ন্ড, লোকবল সংকট, শিমরাইলমোড় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শূন্য,সাইনবোর্ড, এবং তারাব বিশ্বরোডে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক ইন্সপেক্ট (টিআই) ও সার্জেন্টদের ডিউটি স্থায়ীকরণ না করার কারণে মহাসড়কের এই অংশে পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্টরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ট্রাফিক ইন্সপেক্টররা একদিন সিদ্ধিরগঞ্জের সানইনবোর্ড আরেকদিন তারাবো পয়েন্টে ডিউটি করার কারণে ডিউটির নামে আসা যাওয়া ছাড়া কাজে কোন গতি আসছেনা। নেই সার্জেন্টদেরও কোন স্থায়ী ডিউটি। তাদের মধ্যেও উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। যার কারণে পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্টরা কাঙ্খিত সেবা থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। হাইওয়ের ২৮ কিলোমিটার সীমানা বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত ২ জুন হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়ন পুলিশ সুপার আলী আহমেদ খান আনুষ্ঠনিকভাবে হাইওয়ের উদ্ভোধন করেন। মাত্র ৭০ জন লোকবল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৭০ জন লোকবলে উন্নীত হয়েছে হাইওয়ে থানা। এর মধ্যে ৫ জন টিআই ও ১৩ জন সার্জেন্ট রয়েছেন। কর্মকর্তাদের প্রতিটি পয়েন্টে স্থায়ী না করায় তাদের মধ্যেও উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। কোন দিন কোন পয়েন্টে কোন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন তা একমাত্র ডিউটি বন্টনকারী কর্মকর্তা ব্যতীত যারা ডিউটি করে থাকেন তারাও সঠিকভাবে জানেননা। এই হযবরল অবস্থার মধ্যে চলছে মহাসড়কের উলেখিত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সমূহ। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্টদের প্রতিটি পয়েন্টে স্থায়ীভাবে দেওয়া হলে কাজের গতি বেড়ে যাবে, যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলার পরিমাণ ও রাজস্বও বাড়বে, কাঙ্খিত সেবার মানও বাড়বে বলে মনে করেন পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্টরা। ২৪ ঘন্টাই ইন্সপেক্টররা তার পয়েন্টের প্রতি নজর রাখবেন। এদিকে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাইওয়ে থানার সামনে লোকজনের হাট বসে। এই হাট সেই হাট নয়, গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়ার মানুষের জটলার হাট। থ্রী হুইলার ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবিরের শীর্ষ রয়েছে সংবাদকর্মী, এর পরে রাজনীতিবিদ, পরিবহন নেতৃবৃন্দ,পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা। এই তদবিরের কারণে হাইওয়ে পুলিশ রীতিমতো অতিষ্ঠি হয়ে উঠেছে এবং তাদের স্বাভাবিক কাজকর্মে ও বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। এই তদবির বন্ধকরণের জন্য হাইওয়ের উর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি সর্বমহলের। থ্রী হুইলার চালকদের অভিযোগ হাইওয়ের ডাম্পিং পয়েন্টে কয়েকজন চিহ্নিত দালাল থ্রী হুইলার বানিজ্যে মেতে উঠেছেন। মামলা বিহীন আটককৃত থ্রী হুইলার প্রতিটি থেকে দালালচক্র ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে সে গুলো হাইওয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন ব্যবসয়ী মোঃ রুবেল ও মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, ওসি মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে হাইওয়ের কার্যক্রম গোছালোভাবেই চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পরিবহন ব্যবসায়ীর অভিযোগ এসআই শহীদসহ হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন যারা ডিউটিতে এসে গাড়ি আটক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। ঢাকা চট্রগাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলমোড় একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই পয়েন্টে গত দেড় মাস ধরে কোন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) দেওয়া হয়নি । বর্তমানে সাইনবোর্ড, ও তারাবো এই দুই পয়েন্টে ৩ জন টিআই অস্থায়ীভাবে অদল বদল করে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে শিমরাইল এলাকার পরিবহন ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দের দাবি ওই ৩ জন ট্রাফিক ইন্সপেক্টরদের মধ্যে একজনকে শিমরাইলে স্থায়ী করার দাবিও উঠেছে। এদিকে শিমরাইলমোড়ে দায়িত্ব পালনকারী হাইওয়ে পুলিশের লোকবল সংকট থাকায় সাইনবোর্ড ও শিমরাইলমোড়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্ট গুলোতে লোকবল বৃদ্ধি করা না হলে সমস্যা প্রকট হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে শিমরাইলমোড় ও সাইনবোর্ডে যানজটের বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে, কারণ গুলোর মধ্যে রয়েছে, নিষিদ্ধ লেগুনাসহ অবৈধ থ্রী হুইলার যানবাহন অবাধ চলাচল, বিভিন্ন পরিবহনের বাস, মিনিবাস, ট্রাক , কাভার্ডভ্যান, কনটেইনার কার্গো,থ্রী হুইলার সিএনজি, ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইক, মহাসড়ক জুড়ে ষ্ট্যান্ড বানিয়ে এলোমেলোভাবে রাখাসহ সাইনবোর্ডে ফুটওভারব্রিজের চলমান কাজের কারণেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া যত্রতত্রভাবে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে ইজিবাইক, লেগুনা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভটভটিসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ যানবাহন। হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের সামনে ইউটার্নে নিষিদ্ধ লেগুনা যত্রতত্রভাবে উল্টোপথে ঘুরার কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে । অথচ এই পয়েন্টে টিআই ও কোন রেকার না থাকায় দিন দিন সমস্যা প্রকট হচ্ছে। মহাসড়ক জুড়ে গাড়ির পার্কিং ও নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে যানজট অনেকাংশেই কমে গিয়ে শ্ঙ্খৃলা ফিরে আসবে বলে মনে করেন পরিবহন নেতৃবৃন্দ। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন আমি ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি, তিনি আরও বলেন ,টিআই ও সার্জেন্টদের প্রতিটি পয়েন্টে স্থায়ী করার বিষয়ে যতটুকু জানি হাইওয়েতে কোন পয়েন্টে টিআই ও সার্জেন্টদের স্থায়ী করার সুযোগ নেই তারপরও পুলিশ সুপার আলী আহমেদ খান স্যার এক্ষেত্রে ভাল বলতে পারবেন বলে জানান অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়ন পুলিশ সুপার আলী আহমেদ খান বলেন, হাইওয়ে জেলা পুলিশের মতো স্থায়ীকরণের সুযোগ নেই, টিআইদের শিমরাইল ক্যাম্পে দেওয়া হয়েছে তারা পালাক্রমে ডিউটি করবেন এবং ঈদকে সামনে রেখে লোকবল বৃদ্ধি করে সিডিউল দেওয়া হয়েছে।