সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ১০ টি ওয়াডের্ র প্রতিটি পাড়ামহলা ও অলিগলিতে অবাধে মাদক বিক্রি হচ্ছে। পুলিশ রহস্যজনক কারণে মাদক ব্যবসা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করার কারণে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের শংকা। গত মঙ্গলবারও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ডাচবাংলা ব্যাংক বিল্ডিংয়ের সামনে মাদক ব্যবসয়ীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কয়েকশত নারাী পুরুষ মানবন্ধন পর্যন্ত করেছে। সমাজের উঠতি বয়সের যুবকরা একদিকে যেমন ইয়াবা, ফেন্সিডিল এর নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে তেমনি স্কুল ও কলেজগামী ছাত্ররাও ইয়াবা নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। সহজে বহন করা যায় শত শত ইয়াবা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে প্রতিটি পাড়া মহলার অলিগলির রাস্তার মধ্যেই চলে এই ইয়াবার ব্যবসা। সিদ্ধিরগঞ্জের অর্ধশতাধিক স্পটে চলছে এই মাদক ব্যবসা। ঢাকা-চট্রগ্রাম-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে আসছে কোটি কোটি টাকার মাদকদ্রব্য। নারায়ণগঞ্জ সিটিকরপোরেশনের ১ থেকে ১০ নং ওয়ার্ড রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায়।ওয়ার্ডগুলোর উলেখযোগ্য মাদকদ্রব্য স্পট গুলো হচ্ছে ,মিজমিজি আমজাদ মার্কেট এলাকা,বাতানপাড়া, আলআমিননগর, কদমতলী দক্ষিণ ও উত্তরপাড়া,হিরাঝিল মক্কীনগর মানিক মিয়ার ম্যাচের দক্ষিণঅংশ, পাইনাদি নতুনমহলা, মিজমিজি পশ্চিমপাড়া পূর্বপাড়া,মুজিবাগ,ওয়াপদাকলোনী,আজিবপুর বাগানবাড়ী আউলাবন, আদমজী, সুমিলপাড়া, গোদনাইল, বার্মাশীল, ভূঁইয়াপাড়া, জালকুড়ি, পাঠানটুলি, এনায়েতনগর, সানারপাড়, নিমাইকাসারী, পূর্ব নিমাইকাশারী শাহীন মডেল স্কুলের উত্তর পাশে. রসুলবাগ,আদমজীরবিহারীকলোনী,অদর্শনগর,বাগমারা,সাহেবপাড়া,সিআইখোলা,সিদ্ধিরগঞ্জহাউজিংএলাকা,আইলপাড়া,এসওরোড,চিত্তরঞ্জন,বউবাজার,২নংঢাকেশ্বরী,কদমতলী,নয়াপাড়া,কাশেমপাড়া,হিরাঝিলমক্কীনগরমাদ্রাসারোড,নয়াআটিমুক্তিনগর, নাসিক ৪ নং ওয়ার্ডের শিমরাইল, শীতলক্ষ্যা নদীর তীর, বাগানবাড়ি, রেললাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে তারা তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়াবা কারবারের কথা জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন এলাকাভিত্তিক সরকারদলীয় কতিপয় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ এই সকল মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দিচ্ছে। তারা নিজেরা এই মরণনেশা সেবন করে এবং মোটা অংকের টাকা মাসোহারা পাচ্ছে। থানা পুলিশও এদের বিরুদ্ধে নিচ্ছেনা কোন আইনগত ব্যবস্থা। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ কোন বড় ধরনের ইয়াবা কিংবা ফেন্সিডিল চোরাকারবারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি কিংবা উদ্ধার করতে পারেনি কোন উলেখযোগ্য মাদকদ্রব্য। অথচ কোটি কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে নিরবব ভূমিকা পালন করায় সিটিবাসী রীতিমতো রয়েছে আতংকে। শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালের এক শ্রমিক বলেন খুচরা হিসেবে শিমরাইল গ্লাস ফ্যাক্টরী সংলগ্ন সহোদর মোহাম্মাদ আলী ও তার ছোট ভাই মোক্তার ২৫০ মিলি এক বোতল ফেন্সিডিল ২৫শ, টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গত এক সপ্তাহ পূর্বে মোক্তার মাদক মামলা থেকে জামিনে এসে আবারও জড়িয়ে পড়েছে মাদক চোরাকারবারীতে। মোক্তারের বড় ভাই মোহাম্মাদ আলী ও তার পরিবারবর্গও এই মরণ নেশা ফেন্সিডিল বিক্রি করছে অবাধে। ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়, গাঁজা প্রতি পুরিয়া ৫০/১০০ টাকা দরে বিক্রি করছে। শত শত নারী পুরুষ জড়িয়ে পড়েছে এই মাদক চোরাকারবারীতে। এদের মধ্যে আবার অনেকেই পাইকারী দরে মাদক বিক্রি করছে বলে জানালেন এলাকাবাসী। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক কেনাবেচা ও সেবন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মাদক বিক্রেতা ও ক্রেতাদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে এলাকাবাসী অতি তাড়াতাড়ি ঘরমুখো হয়। পুলিশের টহল না থাকায় এরা রাতের বেলায় বেপরোয়া হয়ে উঠে। অনেক মাদক কারবারী অন্য কোন কাজ না করে এই মাদককে পুঁিজ করেই চলছে এবং তাদের সংসার চালাচ্ছে। এদেরকে দিনের বেলায় বেশী একটা দেখা যায় ন্ াকারণ এরা দিনে ঘুমায় সন্ধ্যার সাথে সাথে এরা বাইরে বের হয়।এলাকাবাসী অক্ষেপ করে বলেন প্রতিটি পাড়ামহলা এবং অলিগলিতে র্যাব টহলের জোরালো দাবি জানান। যেভাবে ইয়াবা ব্যবসা সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে ঘর থেকে বের হওয়াই দায় হয়ে পড়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে সমাজে বসবাস করা দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে। সানারপাড়ের বাসিন্দা মোঃ ইউনুছ মিয়া এবং পূর্ব নিমাইকাশারীর বাসিন্দা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন পুলিশ প্রশাসনের নজর না থাকার কারণে ইয়াবায় ভাসছে গোটা সিদ্ধিরগঞ্জ । গত কয়েকদিনে হিরাঝিল মানিক মিয়া ম্যাচের দক্ষিণ পাশে আলইসলামনগর এলঅকা থেকে ইয়াবাসহ কয়েকজন মাদক কারবারীকে হাতেনাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও থানায় নেওয়ার আগেই তাদেরকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয় বলে ্লাকাবাসীরা জানায়। খোঁজ নিয়ে আরও জানাগেছে,সিদ্ধিরগঞ্জের বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা হিসেবে খ্যাত হিরাঝিল, সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং ,ভূমিপলী, সানারপাড়, নয়াআটি এ সকল এলাকার বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অনেক মাদক চোরাকারবারী অবাধে মাদক ব্যবসার পাশাপশি নারীদের রেখে অনৈতিক কারবার চালাচ্ছে। এলাকাবাসী ঝামেলা এড়াতে মুখ খুলে কোন প্রতিবাদ করার সাহস পচ্ছেনা । স¤প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওপেন হাউসডে অনুষ্ঠানে এক যুব মহিলালীগ নেত্রী আরেক নেত্রীকে মাদক ব্যবসায়ী বলে বক্তব্য দেওয়াকালে হট্রোগোল বেঁধে যায়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন সারাদেশেইতো মাদক। পরে কথার মোড় গুড়িয়ে তিনি বলেন প্রতিদিনই কম বেশী মাদক উদ্ধার করে মামলা দেয়া হচ্ছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহ রয়েছে।